এনবি নিউজ : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের হাতে ছাত্রদের চুল কাটার ঘটনায় আবারও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

আজ রবিবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাজমুল হাসান শামীম নামে এক শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আর আবেদ হাসান শাওন নামে আরেকজন ব্লেড দিয়ে হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে পুলিশের সহযোগিতায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে আবারও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, ‌আজ বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করার বিষয়ে গত রাতে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ কারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বুঝাতে রেজিস্ট্রার সোহরাব হোসেনসহ আমরা একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়েছিলাম। কিন্তু আলোচনা চলার একপর্যায়ে শিক্ষার্থী শামীম কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর শিক্ষকদের একটি অংশ দ্রুত তাকে পোতাজিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপরই শিক্ষার্থী আবেদ ব্লেড দিয়ে হাত কাটেন। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় আগামীকাল আবারও মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ করছে। সিদ্ধান্ত ছাড়া সিন্ডিকেট সভা মুলতবি করা হয়েছে। আবার কবে বসবে, তা নিশ্চিত নয়। বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ মোবাইলে জানান, শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। না বুঝে তারা আন্দোলন করছে। আগামী এক/দেড় সপ্তাহের মধ্যে আবারও সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন নিজেই কাঁচি হাতে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন বলে অভিযোগে ওঠে। সেই শিক্ষার্থীদের একজন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে তাকে বকাঝকা করায় আত্মহত্যার চেষ্টা করলে ক্ষোভে উত্তাল হয় বিশ্ববিদ্যালয়।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন। যদিও তিনি শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওই ঘটনায় ফারহানা ইয়াসমিনকে অপসারণের দাবিতে অনশন শুরু করে একদল শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান অবস্থায় চুল কাটার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়।

এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ফারহানা ইয়াসমিনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি একটি বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ টি