এনবি নিউজ : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটের তৃতীয় দিনে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চাপ বেড়েছে অন্য যানবাহনে। ধর্মঘটে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারেও।

এদিকে, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে জেলা ও বিভাগীয় শহরে কোনো বাস চলাচল করছে না। বন্ধ রয়েছে আন্তঃজেলা বাস চলাচলও। চিকিৎসা কিংবা জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। হেঁটে কিংবা বেশি ভাড়া দিয়ে অন্য যানবাহনে গন্তব্যে ছুটছেন তাঁরা।

রাজশাহীতে পথে পথে কিংবা বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দেখা গেছে যাত্রীদের দুর্ভোগ। ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করেও সামলানো যাচ্ছে না যাত্রীদের চাপ।

এদিকে, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী দুই শতাধিক ট্রাক আটকে পড়ায় রাজশাহীর বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজসহ শীতকালীন সবজির দাম।

এ ছাড়া খুলনাতেও রেলস্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। খুলনা রেলস্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার স্নিগ্ধা ঘোষ জানান, আজ রোববার সকালে খুলনা থেকে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেসে আসন ছিল এক হাজার ৩০২টি। করোনার কারণে দাঁড়ানোর টিকেট বিক্রি বন্ধ থাকায় ট্রেনের টিটিদের কাছে জরিমানা দিয়ে টিকেট কেটে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। শিশু সন্তানদের কোলে নিয়ে ট্রেনে দাঁড়িয়ে অনেক মায়েরা রওয়ানা দিচ্ছেন গন্তব্যে।

অন্যদিকে, খুলনায় বেড়াতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক পর্যটক। শীতের মৌসুমে সুন্দরবন দেখতে খুলনায় এসেছিলেন অনেকে। সাধারণত অফিসের নিয়মিত ছুটি পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বা শুক্রবার সকালে বেড়াতে গিয়ে রোববার কর্মস্থলে ফেরেন অনেক ভ্রমণপিয়াসু। ধর্মঘটের কারণে তাঁরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

খুলনায় রেলস্টেশনে উপচেপড়া ভিড়।

সুন্দরবন টুরিজম নেতা মাজাহারুল ইসলাম কচি জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে সুন্দরবনে ৫০০ পর্যটক রয়েছেন। আজ দুপুরের পর থেকে তাঁদের খুলনা শহরে ফেরার কথা। পরে খুলনা থেকে সড়কপথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব পর্যটকেরা।

খুলনা সড়ক পরিবহণ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাবেক সাংসদ আব্দুল গাফফার বিশ্বাস জানান, আজ রোববার বিকেলে  ঢাকায়  সব পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সে বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আব্দুল গাফফার বিশ্বাস আরও জানান, শুধু ডিজেল নয়, ফেরি ভাড়া, ব্রিজের টোল-ট্যাক্স বৃদ্ধি করে পরিবহণ সেক্টরের বেহাল অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এ ছাড়া রংপুর, কুষ্টিয়া, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তৃতীয়দিনের মতো পরিবহণ ধর্মঘটে চরম ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ।