এনবি নিউজ : মহামারির পর ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার দরুন দেশে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে, মুদ্রার মান কমে এসেছে। এমতাবস্থায় নতুন অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এমনটিই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মূল্যস্ফীতির এই লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করেন।

বলেন, সরকার দেশে বর্তমানে বিরাজমান চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমিয়ে সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়।

বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচককে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। পরে তা সংশোধন করে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করা যায়নি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশে ওঠে, যা ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। স্বাভাবিকভাবেই নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তের সংসারে নিত্যপণ্যের হিসাব মেলাতে স্বাভাবিকভাবেই প্রচণ্ড চাপ পড়ছে।

এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘প্রধান চ্যালেঞ্জ’ বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী।

‘কোভিড অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে আজকের বাজেট। গত দুবছর করোনা মহামারির কারণে থমকে ছিল সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। সেখান থেকে বেরিয়ে আগামী দিনগুলোয় উন্নয়নের গতিধারা ফিরে আসবে— এমন স্বপ্ন দেখছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট এরই মধ্যে ঝুঁকিতে ফেলছে বিশ্বসহ দেশের অর্থনীতিকে। কঠিন মূল্যস্ফীতির চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। এটি এবারের বাজেটের চ্যালেঞ্জ।

নতুন বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাজেট। এটি বাস্তবায়ন করতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি (অনুদানসহ) বাজেট হবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, আর অনুদান ব্যতীত ঘাটতির অঙ্ক দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।
এ টি