এনবি নিউজ  :   পদে পদে বাধা, বাস, লঞ্চ বন্ধ। এসবের তোয়াক্কা না করে বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করে, ঝক্কিঝামেলা পেরিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা বরিশালের গণসমাবেশে পৌঁছে। গত তিন দিন ধরেই সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন তাঁরা। আর গতকাল আগের  রাতে ছিল সেখানে লোকে লোকারণ্য। এদিন বিকেলে রাজধানী ঢাকা থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরাও পৌঁছান বরিশালে।

ধর্মঘটের কারণে সড়ক ও নৌপথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে দেশের দক্ষিণের বিভাগ বরিশালে। এতে করে গত বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যত বরিশাল মহানগর বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকে বিছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় আজ শনিবার বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (বেলস পার্ক) বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা রংপুরের পর এটি বিএনপির পঞ্চম বিভাগীয় গণসমাবেশ।

তিন দিন আগেই সমাবেশের আমেজ শুরু হয় বরিশালে। গতকাল শুক্রবার সূর্যাস্তের আগেই বিপুল নেতাকর্মীর শ্লোগানে মুখর ওই এলাকা। আগত নেতাকর্মীদের মধ্যে নারীরাও রয়েছেন। বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে নেতাকর্মীদের একের পর এক মিছিল ঢুকছে সমাবেশের মাঠে। ব্যানার-ফেস্টুনের পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসহ স্থানীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে মিছিলে মিছিলে আসছেন তারা। সব মিলিয়ে এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে।
এই সমাবেশকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনাও ছিল। এই নিয়ে মহানগরবাসীর মধ্যে ছিল উৎকণ্ঠা। ধারণা করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকবে। কিন্তু, বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান করলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা ছিল শান্ত। যদিও গতকাল বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের আগমনের আগ মুহূর্তে মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করতে দেখা গেছে ছাত্রলীগদের।

কথা হয় অটোরিকশাচালক মোজাহিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বরিশালে আসছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মিছিল করে। তবে, নগরীর মধ্যে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। কিছু রিকশা চলছে। তার সংখ্যাও কম।’

গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিশেষ অতিথি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান।

গত বৃহস্পতিবার থেকে লঞ্চ এবং গতকাল শুক্রবার থেকে ছোট বড় যান চলাচল বন্ধ হওয়ার আগেই বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং বরিশাল জেলার ৪২টি উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা বরিশাল মহানগরীতে প্রবেশ করতে থাকে। এখানে আসতেও নেতাকর্মীদের পথে পথে নানা বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় এই নিউজ লেখার সময়ও বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রলার ও বালুবাহী জাহাজ বালকহেট করে রওনা হয়েছেন অনেক নেতাকর্মী।

সমাবেশ মাঠে জুমার নামাজ আদায়

বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের মাঠেই গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ আদায় করেছেন সেখানে রাতে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয়, স্থানীয় ও বরিশালের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতারাও এ সময় উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একইসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেও দোয়া করা হয়।

গতকাল সকাল থেকেই বরিশালে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি তিন চাকার যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। দুপুরে সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা যায়, এখানে মূলত বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার নেতাকর্মীরা আগেভাগে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অনেকে জানান, সকাল থেকে এসব জেলার আরও অনেক নেতাকর্মী নৌপথে ট্রলার এবং পণ্যবাহী নৌযান নিয়ে সমাবেশস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। একই সঙ্গে পিরোজপুর জেলার নেতাকর্মীরা শতাধিক ট্রলারে সমাবেশে যোগ দিতে গতকাল সকালে রওনা দেন।

বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন এনটিভি অনলাইনকে  বলেন, ‘হামলা-বাধা কোনো কিছুতেই বরিশালে জনস্রোত ঠেকানো যাবে না। প্রয়োজনে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে, সাইকেলে, ট্রলার ও নৌকায় চেপে গণসামবেশে যোগ দেবেন।’

গত কয়েক দিন ধরে সমাবেশ সফল করতে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় দায়ত্বপ্রাপ্ত নেতারা প্রাণপণ চেষ্টা চালান। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় লিফলেট বিতরণসহ ব্যাপক গণসংযোগ করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। বেশ কিছু জায়গার এ সময় বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে প্রথম গণসমাবেশ করে বিএনপি। এরপর ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে, ২২ অক্টোবর খুলনায় গণসমাবেশ করে দলটি। সবশেষ গত ২৯ অক্টোবর রংপুরে গণসমাবেশ করে দলটি।

আজ শনিবার বরিশালে এরপর আগামী ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় দফার কর্মসূচি শেষ হবে। এরপর নতুন কর্মসূচিতে যাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।