এনবি নিউজ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২০ জেলার ৩ দিনের ইজতেমা চলছে। এখানে ওলামায়ে কেরাম ও ৩ চিল্লার সাথীদের সমাগম ঘটেছে। গত শুক্রবার থেকে টুঙ্গিপাড়ার গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে এ ইজতেমা শুরু হয়েছে। সোমবার ভোরে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা সমাপ্ত হবে।

এ ইজতেমায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২০ জেলার অন্তত ১ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তাদের পদচারণায় টুঙ্গিপাড়া এখন মুখরিত। গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসা থেকে টুঙ্গিপাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই জাতির পিতার জন্মভূমি, পৈতৃকবাড়ি ও সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স দেখতে ভিড় করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

আজ রোববার এখানে মুসল্লিদের ঢল নামে। বিভিন্ন বয়সের মুসল্লিরা বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। গত শনিবার ও শুক্রবার বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে মুসল্লিদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।
আজ সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ইজতেমায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ পরিদর্শন করছেন। দলে দলে বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে ঢুকছেন। আর জাতির পিতার জন্মভূমি, পৈতৃকবাড়ি ও সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স ঘুরে ঘুরে দেখে আবার ইজতেমা মাঠে ফিরে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রথম এসেছেন। তবে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়া-মোনাজাত করেছেন।
ইজতেমায় অংশ নেওয়া ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার কাগদী মসজিদের ইমাম রফিকুল ইসলাম (৫৫) বলেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসায় ৩দিনের ইজতেমা চলছে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভোলা জেলা  বাদে ২০ জেলার ওলামায়ে কেরাম ও ৩ চিল্লার সাথীরাসহ প্রায় ১ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। আমরা ইজতেমা ময়দান থেকে একটি দল বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে এসেছি। আমাদের মত অনেক দল এখানে এসেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান, আদি পৈতৃক বাড়ি, সমাধিসৌধ পরিদর্শন করেছি। এগুলো আমাদের কাছে ভালো লেগেছে। এছাড়া আমরা বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজত করেছি।
এজতেমায় অংশ নেওয়া ররিশাল জেলার সায়েস্তাবাদ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্ব মোঃ আমির হোসেন (৭০) বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা । তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর সমাধিসৌধে দলবল নিয়ে এসেছি। এটিই আমার বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রথম আসা। এখানে এসে তার ঐতিহাসিক বাড়িসহ সমাধিসৌধ দেখে আমর মনভরে গেছে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি।
ইজতেমায় অংশ নেওয়া খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার সজিয়াডা কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ (১৮) বলে, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে শুনেছি। ইজতেমার সুবাধে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ ঘুরে দেখতে পেয়েছি। এটি আমার কাছে পরম পাওয়া। তিনি আমাদের জাতির শতাব্দীর  মহানায়ক। প্রিয় এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে  মনে মনে তাঁর জন্য প্রার্থনা করেছি।
ইজতেমায় অংশ নেওয়া বরগুনা কালেকটরেট স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম (৩৫) বলেন, বাইতে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জেনেছি। আজ তাঁর বাড়িতে এসে ইতিহাসকে স্পর্শ করতে পেরেছি। জেনেছি নতুন নতুন তথ্য। আজকের দিনটি তাই আমার কাছে স্মরনীয় হয়ে থাকবে।
ইজতেমায় অংশ নেওয়া মাদারীপুর জেলার শিলারচর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনির হোসেন (৪০) বলেন, এখানে এসে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে একটি ধারণা নিতে পেরেছি। তিনি সারা জীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন। জাতিকে শৃংখল মুক্তির স্বাদ  দিয়েছেন। প্রতিদান কিছু নেন নি। তাই এ মহান নেতার প্রতি আমার বিন¤্র শ্রদ্ধা। তিনি আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। ইজতেমায় এসে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে দেখার সুযোগ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে কাছের থেকে অনুভব করেছি। এ অনুভূতি সারাজীবন বহন করতে চাই। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এটিকে জাগ্রত করব। বঙ্গবন্ধু আমাদের মধ্যে চিরন্তন হয়ে থাকবেন।
বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের সহকারী কিউরেটর মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, টুঙ্গিপাড়ায় ২০ জেলার ইজতেমা হচ্ছে। ইজতেমায় আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বঙ্গবন্ধুর সমাধি পরিদর্শন করছেন। এ কারণে এখানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে।