এনবি নিউজ : ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাবের’ কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়া বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে। রোববার মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ- দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে দু’নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ একে এম নাজমুল হক জানিয়েছে, বাংলাদেশের উপকূলে এর কোনো প্রভাব অথবা আঘাত করার শঙ্কা নেই। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। যেহেতু ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। সেহেতু উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ আরও পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৮ থেকে ৪০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৬ দশমিক ২০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছিল।

এটি রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের উত্তর অন্ধ প্রদেশ- দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় বিরাজ করছে।

রোববার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুরে, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী দু’দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। পরের ৫ দিনে আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, এ সময় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

এছাড়া সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বাড়তি অংশ রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, উড়িষ্যা, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশ হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।
এ টি