এনবি নিউজ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক নারীকে চাপা দেয় একটি প্রাইভেটকার। এরপর তিনি আটকে যান ওই প্রাইভেটকারের নিচে। এ অবস্থায় শাহবাগ থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত ওই নারীকে টেনে নিয়ে যায়। পরে নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ থেকে পলাশীর দিকে সড়কের মুখে চালককে আটকায় পথচারীরা। কারের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় নারীকে।  এরপর তাঁকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। কিন্তু, বাঁচানো যায়নি। সেখানে নেওয়ার পর মারা যান ওই নারী। নিহত নারীর নাম রুবিনা বলে জানা গেছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানা ও ঢাবির টিএসসির মধ্যবর্তী রাস্তায় (ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকা) নিহত ওই নারীর সঙ্গে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগে। একপর্যায়ে তিনি গাড়ির নিচে পড়ে যান। এ সময় ওই গাড়িচালক গাড়ি না থামিয়ে গতি বাড়িয়ে দেন।

ওই নারী গাড়ির নিচে আটকে থাকায় টিএসসির মোড় হয়ে নীলক্ষেত পর্যন্ত চালক তাকে টেনেই নিয়ে যায়।

নীলক্ষেত পর্যন্ত যাওয়ার পর সাধারণ জনতা গাড়ি থামিয়ে ওই নারীকে আশঙ্কাজনকভাবে উদ্ধার করে।

জানা যায়, রুবিনাকে গাড়ির নিচে টেনে নেওয়া গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহ

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘এক্সিডেন্টের শিকার মহিলাটি মারা গেছেন। আর গণধোলাইয়ের শিকার ওই চালকের  চিকিৎসা চলছে।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চাকরিচ্যুত শিক্ষকের প্রাইভেট কারে টেনে নেওয়া রুবিনা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে রুবিনা আক্তারের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। সড়ক পরিবহন আইনে এ মামলা করা হয়েছে। রুবিনাকে গাড়ির নিচে টেনে নেওয়া গাড়ির চালক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার এসআই (উপপরিদর্শক) শাহ আলম বলেন, বেপরোয়াভাবে প্রাইভেটকার চালিয়ে রুবিনা আক্তারকে মেরে ফেলার ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে। তবে ঘাতক চালক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহের চিকিৎসা চলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।