এনবি নিউজ :নভেল করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা। এ সময় জাতীয়ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।

পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয় পুরো এলাকা। যেখানে পা ফেলারই জো নেই, সেখানে কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কলা ভবন, কার্জন হল, ব্যবসায় অনুষদসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের পদচারণা। সবার মাস্ক পরার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই।

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ‘ক’ ইউনিটে ১৮১৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে এক লাখ ১৭ হাজার ৯৫৭টি। সে হিসাবে আজকের পরীক্ষায় প্রতি আসনের জন্য লড়ছে ৬৪ দশমিক ৯৯ জন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে তিন ফুট নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অথচ গাদাগাদি করা লাইনে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি কেন্দ্রের বাইরে ছিলেন অভিভাবকেরাও। দূরত্ব মানার কোনো বালাই ছিল না পরীক্ষার হলগুলোতে। অনেকের মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। অনেক কেন্দ্রের প্রবেশমুখে ছিল না স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা।

ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা ইকরামুল ইসলামের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার প্রকোপ যদিও আগের মতো নেই। তবু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলায় আমরা ভেবেছিলাম এ ব্যাপারে কঠোর থাকবে কর্তৃপক্ষ। অথচ এখানে এসে দেখছি ভিন্ন পরিস্থিতি। এখানে কেউ কোনো নিয়ম-কানুন মানছেন না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে জাতীয় নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আমরা বলেছিলাম। এ ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হওয়া দরকার।’

জালিয়াতির বিরুদ্ধে সোচ্চার : ঢাবি উপাচার্য

প্রশ্নফাঁসকারী ও জালিয়াতি চক্রের ফাঁদে পা না দিতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা বরাবরই অনিয়ম-জালিয়াতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিভিন্ন সময় জালিয়াতি করা ৮৯ জন শিক্ষার্থীকে আমরা ভর্তি বাতিল করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি।’

অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘গুজব যারা ছড়াবে, তা দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে। এ ছাড়া আমাদের মোবাইল টিম এবং গোয়েন্দারা রয়েছেন। তাঁরা এগুলো দেখবেন। আমি খোঁজ নিয়েছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর মর্যাদার সঙ্গে যেভাবে যায় সেভাবেই পরীক্ষা চলছে।’

এ পরীক্ষায় অবৈধ বা বিতর্কিত কোনো কিছু ঘটেনি উল্লেখ করে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এবার প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের বিভাগীয় সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি এবং বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শিক্ষকেরা প্রত্যেকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অবৈধ বা বিতর্কিত কিছু ঘটেনি। অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে এই পরীক্ষা হচ্ছে।’

ঢাবির উপাচার্য বলেন, ‘আমি লক্ষ করেছি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন। তবুও আমি অনুরোধ করব, কোনোভাবেই যেন স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ না করেন, সবাই মাস্ক ব্যবহার করবেন। অভিভাবকদের নিকট অনুরোধ আপনারা অযথা ভিড় করবেন না। সুন্দরভাবে পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

এবার ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী রাজশাহী (রাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি), রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) একসঙ্গে একই সময়ে হচ্ছে।

এবারের ‘ক’ ইউনিটে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা এক লাখ ১৭ হাজার ৯৫৭ জন। আর মোট আসনসংখ্যা ১৮১৫টি। সেক্ষেত্রে এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়ছেন ৬৪ দশমিক ৯৯ জন।

এর মধ্যে ‘ক’ ইউনিটে ঢাবিতে পরীক্ষা দিচ্ছেন ৫৮ হাজার ৬০৩ জন, চবিতে ১১ হাজার ২১৭ জন, রাবিতে ১৪ হাজার ৩২৮ জন, খুবিতে আট হাজার ৯২২ জন, শাবিপ্রবিতে তিন হাজার ৩০৫ জন, বেরোবিতে ১০ হাজার ৩৫১ জন, ববিতে তিন হাজার ৪২৫ জন, বাকৃবিতে সাত হাজার ৮০৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন।