বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে ইউক্রেন সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে ক্রেমলিন। দেশটিতে সামরিক অভিযানের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করে আসছে মস্কো। তবে এ কথা বিশ্বাস করতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এ নিয়ে উত্তেজনা প্রশমনে দফায় দফায় চলছে আলোচনা। গত শুক্রবারই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আলোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনল যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, কিয়েভে সম্ভাব্য রুশপন্থী সরকারের প্রধান হিসেবে ইউক্রেনের সাবেক আইনপ্রণেতা ইয়েভহেন মুরাইয়েভকে বিবেচনা করছে রাশিয়া। এ-সংক্রান্ত তথ্য যুক্তরাজ্যের কাছে আছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি যুক্তরাজ্য।

ইউক্রেনে রুশপন্থী সরকার বসাতে রাশিয়া ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ এনে টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। টুইটে তিনি বলেন, ইউক্রেনে রুশপন্থী নেতৃত্বকে ক্ষমতায় বসাতে ক্রেমলিনের চক্রান্ত তাঁরা কোনোভাবেই সহ্য করবেন না। ক্রেমলিন জানে যে সামরিক অনুপ্রবেশ কৌশলগতভাবে একটি বড় ভুল হবে। তার জন্য রাশিয়াকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইউক্রেনের বেশ কয়েকজন সাবেক রাজনীতিকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন রুশ গোয়েন্দারা।

যুক্তরাজ্যের এমন অভিযোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রাশিয়া। তবে এই অভিযোগ সম্পর্কে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম অবজারভারকে ইউক্রেনের সাবেক আইনপ্রণেতা ইয়েভহেন মুরাইয়েভ বলেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে। তারা যে অভিযোগ তুলেছে, তা যৌক্তিক নয়। তাঁকে রাশিয়া নিষিদ্ধ করেছে। শুধু তা-ই নয়, দেশটিতে তাঁর বাবার অর্থও জব্দ করা হয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ইয়েভহেন মুরাইয়েভ রুশপন্থী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমাদের সঙ্গে ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠতার বিরোধী তিনি। গত ডিসেম্বরে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চালানো জরিপে ইউক্রেনে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় মুরাইয়েভের নাম সপ্তম স্থানে উঠে আসে।। তাঁর পক্ষে জনসমর্থন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে আগ্রহী ইউক্রেন। তবে এ নিয়ে আপত্তি রয়েছে মস্কোর। এই আপত্তির কারণেই ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ নিয়ে কথা উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কূটনীতিকদের সর্বশেষ বৈঠকেও। বৈঠকে ক্রেমলিন বলেছে, ইউক্রেনকে কোনোভাবেই ন্যাটোর সদস্য করা যাবে না।