এনবি নিউজ : প্রধান বিচারপতির অবসরোত্তর বিশেষ ভাতার বিধান ২০২১ সালের মে মাস থেকে কার্যকর করার বিধান রেখে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ছুটি, পেনশন ও বিশেষাধিকার) আইন’ ২০২৩ বিল আজ সংসদে পাস হয়েছে। কোন বিচারক অবসর গ্রহণকালে ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধা প্রাপ্য হবেন।

স্পিকার ড, শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের ২১তম অধিবেশনের আজকের বৈঠকে বিলটি সংসদের স্থিরকৃত আকারে সংসদে পাস হয়। এরআগে বিলের ওপর আনীত জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও অধিকাংশ সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়। তবে সংসদে তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন।

সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এপি ফখরুল ইমাম ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী বিলে একজন সাবেক প্রধান বিচাপতিকে সুবিধা দিতে বিলের ২৪ নং ধারা ‘প্রধান বিচারপতির অবসরোত্তর বিশেষ ভাতার বিধান’টি ২০২১ সালের মে মাস থেকে কার্যকর করার বিধান যুক্ত করার বিষয়ে বারবার আপত্তি উত্থাপন করেন। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আপত্তিটি আমলে নিয়ে বলেন, কোন আইনকে বা আইনের ধারাকে ‘রেক্টোসপেক্টিভ ইফেক্ট’ দেওয়ার ক্ষমতা সংসদের রয়েছে।

বিলের ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির জীবদ্দশায় গৃহসহায়ক, গাড়িচালক, দারোয়ান সাচিবিক সহায়তা অফিস-কাম- রেসিডেন্সের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে ৭০ (সত্তর) হাজার টাকা অবসরোত্তর বিশেষ প্রাপ্য হইবেন’।

‘সুপ্রিম কোর্ট জাজেস (লিভ, পেনশন এন্ড প্রিভিলেজ) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ রহিত করে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলায় বিলটি পুন:প্রণয়ন করা হয়েছে। বিলে অবসর গ্রহণকারী বিচারকদের জন্য উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, কোন বিচারক পূর্ণ গড় বেতনে ছুটিতে থাকাকলে মাসিক বেতনের সমহারে এবং অর্ধ গড় বেতনের ছুটিতে থাকাকলে মাসিক বেতনের অর্ধেক হারে ছুটিকালীন বেতন পাবেন। পূর্ণ গড় বেতনে প্রদত্ত ছুটি, অর্ধ গড় বেতনে প্রদত্ত ছুটির দ্বিগুণ হিসেবে গণনা করা হবে। তবে অর্ধ গড় বেতনে প্রাপ্য ছুটির হিসাব সংরক্ষিত থাকতে হবে। কোন বিচারক তার মোট কর্মকালীন ছুটির শর্তানুযায়ী অর্ধ গড় বেতনে ৩৬ মাস ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এছাড়া পূর্ণ গড় বেতনের ছুটি এককালীন পাঁচ মাস এবং অন্য কোন ছুটি ১৬ মাসের অধিক হবে না। বিচারকদের পূর্ণ বৎসরের জন্য অতিরিক্তি পেনশন হিসেবে মাসিক সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫শত টাকা প্রদান করা হবে।

বিলে অবসরের পর বিচারকরা যে পরিমাণ গ্রস-পেনশন প্রাপ্য হবেন, তার অর্ধেক বাধ্যতামূলকভাবে সমপর্নের বিধান রাখা হয়েছে। কোন বিচারক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ করলে কোন ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। কোন বিচারক অনভিপ্রেত কোন আঘাতের দ্বারা আহত হয়ে কর্মে অক্ষম হলে বিশেষ অক্ষমতা ছুটি প্রাপ্য হবেন। এছাড়া কোন বিচারক অনুমোদিত ছুটি বা অবকাশের অতিরিক্ত অনুপস্থিতিকালের জন্য কোন বেতন প্রাপ্য হবেন না। ছুটি মঞ্জুরের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংরক্ষিত। বিলে পেনশনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, কমপক্ষে পাঁচ বছর পেনশনযোগ্য কর্মকাল সমাপ্তির পর বা অবসর গ্রহণের বয়সসীমা পৌঁছার আগে অসুস্থতাজনিত কারণে অবসরে গেলে বা অপসারিত হলে বা দশ বছর পেনশনযোগ্য কর্মকাল সমাপ্তির পর বা অবসর গ্রহণের বয়সসীমায় পৌঁছার আগে পদত্যাগ করলে বিচারকরা পেনশন সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে জুডিশিয়াল সার্ভিসে কর্মরত বিচারকদের জন্য নিজস্ব সার্ভিসের অনুমোদিত হিসেবে পেনশন প্রাপ্য হবেন। এছাড়া অস্থায়ী প্রধানবিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় স্থায়ী নিয়োগ পেলে অস্থায়ী কর্মকাল স্থায়ীকাল হিসেবে গণ্য হবে। মাসিক পেনশন সাকূল্যে সর্বশেষ উত্তোলিত বেতনের বেশি হতে পারবে না। বিলে বিচারকদের আঘাত জনিত আনুতোষিক এবং পেনশন সুবিধা পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সংবিধানের৭ম সংশোধন বাতিল ঘোষিত হয়। পরবর্তিতে ২০১৩ সালের সাত নং আইন দ্বারা ‘সুপ্রিম কোর্ট জাজেস (লিভ, পেনশন এন্ড প্রিভিলেজ) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ কার্যকর রাখা হয়। অধ্যাদেশটির আবশ্যকতা ওপ্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নতুন আইন আকারে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ছুটি, পেনশন ও বিশেষাধিকার) আইন’ বিল ২০২২ প্রণয়ণ করা হয়েছে।

এ টি